পুলিশের শিক্ষা হলো না! একজন শিক্ষকের মাথা

‎রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল নোমান নামে এক গণিত শিক্ষক। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে মিরপুর ক্যাডেট কোচিংয়ে গণিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

‎রোববার (১ নভেম্বর) মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য প্রথমে এক পথচারী যুবককে পেছন থেকে লাথি মারেন। পরে আরেক পুলিশ সদস্য তাকে লাঠি দিয়ে তিনবার আঘাত করেন। এর মধ্যে একটি আঘাত লাগে মাথায়। আঘাতের পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। তার মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

‎ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন আহত ওই যুবক। তিনি নিজেকে শিক্ষার্থী ও মিরপুর ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, আমি ছাত্র। আমি মিরপুর ক্যাডেট কোচিংয়ে চাকরি করি। মাত্র পড়িয়ে বের হয়েছি। আর তারা আমার মাথায় আঘাত করলেন।’

‎ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য নোমানকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। অন্য সদস্যদের তাঁকে লাঠিপেটা করা থেকে বিরত রাখারও চেষ্টা করেন তিনি।

‎আহত নোমানের পরনে থাকা টি-শার্টে সরকারি বাঙলা কলেজের নাম, গণিত বিভাগ ও তার নিজের নাম স্পষ্টভাবে লেখা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোমানের পোশাক কিংবা চলাফেরায় তাকে বিক্ষোভকারী বলে মনে হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ ছিল না। তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন। এ সময় তার আশপাশেও কোনো বিক্ষোভকারীকে দেখা যায়নি।

‎কোচিং থেকে বাসায় ফেরার পথে একজন শিক্ষকের ওপর পুলিশের এমন বলপ্রয়োগে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচলে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *